Unverified

পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও কঠোর হওয়ার পরিকল্পনা : সরকারে এখনো উৎকণ্ঠা

11:58 Apr 13 2013 Dhaka, Bangladesh

Description
৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ লংমার্চ কর্মসূচির পর কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নৃশংস ঘটনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামী এ নৃশংসতা চালায় বলে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন।

গত বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের তিনজন নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হন। এ ছাড়া শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও বিএনপি-জামায়াতের উসকানির কারণে এর সফলতা নিয়ে সরকারের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

ফটিকছড়ির ঘটনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে নৃশংসতা মনে করে সরকার ও আওয়ামী লীগ। দেশের রাজনীতিতে সন্ত্রাস থাকলেও এ রকম নৃশংসতায় হতবাক হয়ে গেছেন দলীয় নেতারা। রাজনীতি ও দাবি-দাওয়ার নামে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাল দেওয়ার জন্য আর ধৈর্য না দেখানোর পক্ষে সরকারের শীর্ষ পর্যায়। রাষ্ট্রের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দাবি-দাওয়া বা প্রতিবাদ যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠন করতেই পারে। সমস্যা হচ্ছে, যখন এ সুযোগে সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়।

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা আর বিএনপি-জামায়াতের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।
সরকারের ভেতরের অসমর্থিত সূত্রমতে, হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে সরকারের শীর্ষ পর্যায়েরও যোগাযোগ আছে। সরকারি সূত্রগুলো জানায়, বিএনপি-জামায়াত হেফাজতে ইসলামকে আওয়ামী লীগের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে সরকারের কাছে তথ্য আছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলগুলোকে ইসলাম ধর্মের প্রতিপক্ষ করার অপচেষ্টা হচ্ছে। হেফাজতে ইসলামকে বিএনপি-জামায়াতের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে চায় সরকার। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা মাধ্যমে এ সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতার চেষ্টা থাকলেও এ রকম নৃশংসতা সহ্য করা যায় না। এ সংগঠনটির কেউ কেউ বিএনপি-জামায়াতের উসকানিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

সরকারি সূত্র জানায়, গ্রামের মসজিদ-মাদ্রাসায় মাইকের অপব্যবহার করার বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায় আমলে নিয়েছে, বিশেষ করে মাইক ব্যবহার করে গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বিষয়টি সরকারকে ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের মাইকে অপব্যবহার রোধে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এ ছাড়া হরতালের সময় শহরাঞ্চলে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা রোধে পাম্প থেকে খুচরা জ্বালানি তেল বিক্রি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও সরকারের নীতিনির্ধারক প্রথম আলোকে বলেন, মাইকে গুজব ছড়ানো বন্ধে আইনি কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে করণীয় ঠিক করতে আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হবে।

মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বন্ধে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন আর প্রচলিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে নেই। তারা ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে সরকার আইনি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
Credibility: UP DOWN 0
Leave a Comment
Name:
Email:
Comments:
Security Code:
11 + 7 =