Description
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শানে রিসালাত মহাসমাবেশ গতকাল শুক্রবার কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সমাবেশ থেকে প্রায় সব বক্তা দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি এবং শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ ব্লগারদের ফাঁসির দাবি করেন।
একই সঙ্গে বক্তারা আগামী ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান। সরকারকে ধর্মাপরাধী আখ্যায়িত করে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করার হুমকি দেন তাঁরা।
গতকাল বাদ জুমা ‘জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে’ সমাবেশ শুরু হয়ে সন্ধ্যায় শেষ হয়। সমাবেশে পাশের জেলা কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও হবিগঞ্জ থেকে আসা লোকজন অংশ নেয়। মূল মাঠ পূর্ণ হয়ে রেলগেট সড়ক থেকে কুমারশীল মোড় পর্যন্ত লোকজনের উপস্থিতি ছিল। অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী সহায়তা দিয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত সবার জন্য শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। মূল মঞ্চের চারপাশ থেকে শুরু করে শহরে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলে জেলা প্রশাসন।
হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্যসচিব জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ‘সরকার হেফাজত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, আমরা নাকি বিড়ালের মতো লেজ গুটিয়ে চট্টগ্রামে চলে গেছি।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘লেজ গুটালে আজ সমাবেশে এত জনতা কোথা থেকে এল?’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মনে রাখা দরকার, ৬ এপ্রিল ঢাকা লংমার্চে আমরা আঙুল সোজা রেখেছিলাম। এভাবে বক্তব্য দিলে ৫ মে ঢাকা অবরোধের সময় আঙুল বাঁকা করা হবে। তখন দেখা যাবে সরকারের অবস্থা কী হয়।’
হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির মওলানা নুর হুসাইন কাসেমী বলেন, ‘সরকার আমাদের ১৩ দফার ভুল ব্যাখ্যা করছে। সরকার যদি তিন দিনের মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেওয়ার আইন করতে পারে, তাহলে মহানবী (সা.)-এর অবমাননাকারীদের শাস্তি দেওয়ার আইন করতে পারে না কেন?’
অন্য বক্তারা দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে ব্লগার ও ধর্মবিরোধীদের বিরুদ্ধে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার ফতোয়া দাবি করেন। সরকারকে ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
হেফাজতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সভাপতি মনিরুজ্জামান সিরাজীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম অলিপুরী, ফজলুর রহমান মুন্সি, নায়েবে আমির তাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা জোবায়ের আহমেদ আনসারী, আবু আহমঞ্চদ, হাবিবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোবারক উল্লাহ প্রমুখ।
| Credibility: |
 |
 |
0 |
|
Leave a Comment